বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম সাকিব। চীনের ঐতিহ্যবাহী শুঝৌ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (Xuzhou Medical University) ২০২১ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী কেবল পড়াশোনায় নয়, বরং ক্রীড়াঙ্গনেও নিজের অসামান্য দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বর্তমানে নিজের এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রির শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত সাকিব বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একজন তুখোড় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ পর্যন্ত তিনবার মর্যাদাপূর্ণ 'ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ' অর্জন করেছেন। ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়াও অন্যান্য ইনডোর ও আউটডোর গেমেও তার অর্জন ঈর্ষণীয়।
একজন ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া যে সম্ভব, সাকিব তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছেও তিনি একজন পরিশ্রমী এবং প্রাণচঞ্চল শিক্ষার্থী হিসেবে সমাদৃত।
সাকিবের বিশেষ সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য-
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রফিকুল ইসলাম সাকিব তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন: "বিদেশের মাটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা সব সময়ই গর্বের। খেলাধুলা আমার ছোটবেলার শখ, যা আমাকে মানসিকভাবে চনমনে রাখতে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ব্যাডমিন্টনে তিনবার স্কলারশিপ পাওয়াটা আমার কঠোর পরিশ্রমের সার্থকতা। আমি বিশ্বাস করি, লক্ষ্য স্থির থাকলে পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি নিজের প্যাশনকেও জয় করা সম্ভব।"
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন: "আমার এখনকার মূল লক্ষ্য হলো সফলভাবে এমবিবিএস শেষ করে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করা। আমি চাই একজন আদর্শ ডাক্তার হয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখতে, যেখানে খেলাধুলার এই মানসিকতা আমাকে চ্যালেঞ্জ নিতে সাহায্য করবে।"
বিদেশের মাটিতে রফিকুল ইসলাম সাকিবের এই বহুমুখী সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। পড়াশোনার কঠোর চাপের মাঝেও খেলাধুলায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শেষ ধাপ অতিক্রম করে তিনি একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের। সাকিবের এই জয়যাত্রা আগামী দিনে বিদেশে অধ্যয়নরত অন্যান্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।