চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট যখন চরমে, তখন তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাগরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে আসার সুযোগ পাচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, সাগরে ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ছাড় বা ‘জেনারেল লাইসেন্স’ আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মূলত যেসব তেল ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজে লোড করা হয়েছে, কেবল সেগুলোই এই সুবিধার আওতায় পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকেও একইভাবে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে:
* দাম নিয়ন্ত্রণ: বাজারে হঠাৎ বড় পরিমানে তেলের সরবরাহ বাড়লে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম কিছুটা কমে আসবে।
* সরবরাহ সংকট নিরসন: এশিয়ার দেশগুলো, যারা ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই এই তেল সংগ্রহ করতে পারবে।
* কৌশলগত অবস্থান: মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে এটি নতুন কোনো উৎপাদন নয়, বরং আগে থেকে সাগরে ভাসমান তেল ছাড় করার অনুমতি মাত্র। এর মাধ্যমে তেহরানকে নতুন কোনো আর্থিক সুবিধা না দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির ওপর। আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর থাকায় পরবর্তী এক মাস বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।