নির্ধারিত সময়ের আগেই অপরিপক্ব আম পাড়া এবং কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর কারণে সাতক্ষীরার বিখ্যাত আম—বিশেষ করে গোবিন্দভোগ ও হিমসাগরের সুনাম ও বাজারমূল্য হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র অধিক মুনাফার আশায় মৌসুম শুরুর আগেই কাঁচা আম বাজারে সরবরাহ করছে।
জানা গেছে, সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে আম বাজারজাত হওয়ার কথা থাকলেও, কিছু ব্যবসায়ী মাসের শুরুতেই অপরিণত আম সংগ্রহ করে বাজারে ছাড়ছেন। এতে ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হলেও এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এক অভিযানে ৮৪ মণ অপরিপক্ব ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংস করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, আশাশুনি, সদর, কলারোয়া ও তালা উপজেলার পাশাপাশি যশোরের শার্শা উপজেলার আমও “সাতক্ষীরার আম” হিসেবে সারাদেশে পরিচিত।
লাবসা গ্রামের আমচাষি লিয়াকত হোসেন বলেন, উপকূলীয় আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় আম অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ৫ থেকে ৮ দিন আগে পরিপক্ক হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে সংগ্রহ করলে তা স্বাভাবিকভাবে পাকে না।
অন্যদিকে কলারোয়ার ঝাপাঘাট গ্রামের চাষি মাহাবুবুর রহমান বলেন, “আগে আম পাড়লে তা স্বাভাবিকভাবে পাকে না। ইথোফিন স্প্রে করলে আম পাকলেও দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং স্বাদ নষ্ট হয়।”
এদিকে, কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বেলতলা আমবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ২৯ এপ্রিল থেকেই গোপনে গোবিন্দভোগ আম বাজারে আনা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কিছু চাষি ও ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তা, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আম সংগ্রহের নির্ধারিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫ মে: গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই
১৫ মে: হিমসাগর
২৭ মে: ল্যাংড়া
৫ জুন: আম্রপালি
তিনি বলেন, “পরিপক্ক আম বাজারজাত করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরিপক্ব আম যাতে বাজারে না আসে, সে জন্য প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম বাজারজাত অব্যাহত থাকলে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী আমের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।