সাতক্ষীরার কাশেমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একই গ্রামের তিন ব্যক্তির নামাজে জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে আয়োজিত এ হৃদয়বিদারক জানাজায় অংশ নেন কয়েক হাজার মুসল্লি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং জানাজার সময় শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী সত্য, তবে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে যাদের অবদান থাকে তারা মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
মরহুমরা হলেন আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামান, স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান এবং ফজলুর রহমান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। একই সময়ে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় গ্রামের আরও দুই বাসিন্দা আসাদুজ্জামান ও ফজলুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।
জানাজার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ মরহুমদের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন। তারা বলেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এলাকার মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে আসাদুজ্জামান ও ফজলুর রহমানও সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
জানাজা শেষে মরহুমদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। শেষ বিদায়ের সময় স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একই গ্রামের তিনজন মানুষকে একসঙ্গে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন ঘটনা এলাকায় বহু বছর পর ঘটলো, যা গ্রামের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।