সাতক্ষীরায় দাবিকৃত এক লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসী হামিদুল হক শামীমের নেতৃত্বে এক ব্যবসায়ীর দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দেবহাটা উপজেলার উত্তর কুলিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ মিলন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি ও তার ছোট ভাই আবু সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজারের চাররাস্তা মোড়ে “বনলতা কনফেকশনারী” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। গত ১৬ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বহেরা গ্রামের মৃত আবু আদেল সিরাজুল হকের ছেলে হামিদুল হক শামীম এবং দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের আব্দুল ওহাব সরদারের ছেলে জয়নাল সরদার তাদের সহযোগীদের নিয়ে দোকানে এসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তিনি বলেন, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীম ও জয়নালসহ তাদের সহযোগীরা দোকানে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা দোকান ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ মিলন অভিযোগ করেন, হামিদুল হক শামীম একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে শামীম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং দেবহাটা কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল হকের ছোট ভাই হওয়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শামীমের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনার মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি দল পরিবর্তন করে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুল্লাহ মিলন বলেন, “দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শামীম আমার দোকান ভাঙচুর করেছে। এখনো আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার ও গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি জানান, এ ঘটনায় গত ১৬ মে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত হামিদুল হক শামীম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।