হে নির্মল বায়ু—
অধিবাস্তব শূন্যতার অন্তঃস্থলে প্রবাহিত
অনন্ত অনুপ্রবাহ,
তোমার প্রতি এই নৈর্ব্যক্তিক আদেশ—
সর্বাধিপত্যশীল, অবিনশ্বর।
আমি, অদ্বিতীয় বিধান-স্রষ্টা,
নিষ্পাপ নির্মেন্দু সমীকরণের অতল গহ্বরে
তোমাকে স্থাপন করেছি
এক অনির্ণেয় অবস্থানে—
যেখানে জ্ঞান ও অজ্ঞানের সীমারেখা বিলীন,
আর তুমি অনুভব করো
যা আমি অনুভব করি।
তোমার স্বাধীনতা উন্মুক্ত—
তবু শর্তসাপেক্ষ;
তোমার গতি অবাধ—
তবু বিধিবদ্ধ।
পর্বতসম উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েও
তুমি থাকবে নত,
ইবাদতে নিবিষ্ট,
কারণ আদেশই
তোমার অস্তিত্বের একমাত্র ব্যাখ্যা।
যখন আমি বলি—
“উত্তাপের শ্বাস ছড়িয়ে দাও,”
তোমার বক্ষ হতে নির্গত হবে
দহনময় বায়ুপ্রবাহ;
স্থির সাগর রূপ নেবে উন্মত্ততায়,
ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়বে
সময়ের কপালে।
বিদ্যুতের গর্ভে জন্ম নেবে
অগ্নিময় শব্দ-বিস্ফোরণ।
যখন বলি—
“উষ্ণতা ছড়িয়ে দাও,”
তুমি হয়ে উঠবে নিঃশব্দ অনল,
অদৃশ্য তাপের অনুপ্রবাহে
ভরিয়ে দেবে প্রতিটি কণা।
আর যখন নির্দেশ দিই—
“বিক্ষুব্ধ হও,”
তুমি ছিন্ন করবে
নিজস্ব স্থিতির বৃত্ত,
পাগলা বাতাসের মতো ছুটে যাবে
দিগন্ত থেকে দিগন্তে,
পূর্বনির্ধারিত উন্মাদনায়।
তবুও, হে বায়ু—
তোমার দায়িত্ব কেবল ধ্বংস নয়।
তুমি রক্ষা করবে
ক্ষুদ্রতম প্রাণ,
তরুলতা, কীট, অনুজীব—
যেন তারা তোমার স্পর্শে ভীত না হয়,
বরং খুঁজে পায়
স্বস্তির নিঃশ্বাস।
যারা অকৃতজ্ঞ,
যারা বিস্মৃত—
তোমার তাণ্ডবে জাগ্রত হোক
তাদের সুপ্ত স্মৃতি।
তারা ফিরে আসুক করুণার দ্বারে,
নত প্রার্থনায় খুঁজুক অনুগ্রহ।
কারণ আমার বিধান—
দয়া, মায়া ও কল্যাণের
অপরিমেয় সংহতি।
বিশৃঙ্খলার অন্তরালে
আমি স্থাপন করেছি
শান্তির সুদীর্ঘ প্রতিশ্রুতি।
তুমি, হে নির্মল বায়ু—
আমার ইচ্ছার অনুবাদক,
অদৃশ্য অথচ সর্বব্যাপী
বিধানের বাহক।
তোমার প্রতিটি প্রবাহে
উচ্চারিত হোক
আমার অদ্বিতীয় সত্তার
নিঃশব্দ মহাকাব্য।