সাতক্ষীরায় একটি হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ায় আসামিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ব্যক্তি।
রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব-এর আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহরের বদ্দীপুর কলোনি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সবুর।
তিনি অভিযোগ করেন, পুরাতন সাতক্ষীরার কবিরাজ মোড় এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে আবিদ খান ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের “পেটোয়া বাহিনীর” হাতে নিহত হন। এ ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল কবিরসহ প্রায় অর্ধশত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও সে সময় মামলাটি অগ্রগতি পায়নি। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে দুটি মামলা দায়ের করা হয় এবং ওই দুই মামলায় তিনি প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
আব্দুস সবুর দাবি করেন, সাক্ষী হওয়ার পর থেকেই আসামিপক্ষ তাকে হত্যা ও গুমের উদ্দেশ্যে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বৈধ পাসপোর্টে ভারতে যাওয়ার পর ৭ নভেম্বর মধ্যমগ্রামে অবস্থানকালে ভারতীয় পুলিশ তাকে “মিথ্যা মামলায়” গ্রেফতার করে। পরে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হলে তিনি ১৩ দিন রিমান্ড ও ২৮ দিন কারাভোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিমান্ড চলাকালে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার স্বজনদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। এতে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে “পুশ ব্যাক” করা হয় বলেও জানান তিনি।
দেশে ফিরে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান, এস.এম মাকসুদ খান, আতিয়ার রহমান, এস.এম শওকত হোসেনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরার আমলী-৪ আদালতে মামলা দায়ের করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আব্দুস সবুর। বর্তমানে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই কর্মকর্তা সঞ্জয়ের কাছে ন্যস্ত রয়েছে।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ও সাক্ষীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি করছেন এবং মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করবেন না বলে তার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।