আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে জাপানে উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো একটি বিশেষ উপস্থাপনা অধিবেশন। জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটি হসপিটালের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল (SIH)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেডিক্যাল টোরিজম খাতে কাজ করা প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
শিপ ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই তথ্যবহুল অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, ডেপুটি ম্যানেজার, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচক ছিলেন জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটি হসপিটালের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যোগাযোগ কেন্দ্র (IMCC)-এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তোমু ইতো। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় কোবে ইউনিভার্সিটি হসপিটালের আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো, উচ্চমানের বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা, আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য নিবেদিত সহায়তা ব্যবস্থা এবং বিদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
উন্নত চিকিৎসা ও আন্তর্জাতিক রোগী সেবার নতুন দিগন্ত
উপস্থাপনায় জানানো হয়, কোবে ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল হিসেবে ক্যানসার চিকিৎসা, কার্ডিওভাসকুলার কেয়ার, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, জটিল সার্জারি এবং গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা সেবায় আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। হাসপাতালটির আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল কমিউনিকেশন সেন্টার (IMCC) বিদেশি রোগীদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহজতর করতে ভাষা সহায়তা, চিকিৎসা সমন্বয় এবং পরবর্তী ফলো-আপ সেবাও প্রদান করে থাকে।
অধ্যাপক তোমু ইতো বলেন, “বাংলাদেশের রোগীদের জন্য জাপানের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে আগ্রহী। রোগী রেফারেল, তথ্য আদান-প্রদান এবং চিকিৎসা সমন্বয়ের মাধ্যমে উভয় দেশের স্বাস্থ্যখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।”
মেডিক্যাল টোরিজম খাতে অংশীজনদের আগ্রহ
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মেডিক্যাল টোরিজম প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জাপানে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ, ভিসা সহায়তা, রোগী ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ব্যয়, আন্তর্জাতিক রোগী গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
আলোচনায় উঠে আসে যে, বাংলাদেশে উন্নত ও জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী রোগীদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে জাপানের বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন দেশের মেডিক্যাল টোরিজম শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
আয়োজকরা জানান, এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে এবং উন্নত চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে মেডিক্যাল টোরিজম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক রোগী রেফারেল ও চিকিৎসা সমন্বয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্র তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে জাপানের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যখাত বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ-জাপান স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল টোরিজম খাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।