খুলনার ফুলতলা উপজেলার যুগ্নিপাশা এলাকায় খুলনা-যশোর মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুলতলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর আটজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে যশোর থেকে খুলনাগামী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্রাকের চাকা হঠাৎ ফেটে যায়। এতে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যশোরগামী ‘রূপসা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের মুহূর্তে ট্রাকটির পেছনে থাকা খুলনা সরকারি বিএল কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী আরেকটি বাস ট্রাকটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিও সজোরে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মুহূর্তেই মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনটি যানবাহনই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএল কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ইভা (১৯), সমাজকর্ম বিভাগের তামান্না জান্নাত (২০), অর্থনীতি বিভাগের সাবরিনা (২৪), গণিত বিভাগের রন্তা রায় (৩০) ও মাইমুনা (২২), বাংলা বিভাগের নাজমুন নাহার (১৮), যশোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান (৪০) এবং বাসের হেলপার সাইফুল (৪০)। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে তাদের হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানিয়েছে, ভর্তি রোগীদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত তুলনামূলক গুরুতর হলেও সবাই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম তৌহিদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোট ২৪ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”
দুর্ঘটনার কারণে খুলনা-যশোর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরে পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এদিকে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ট্রাকের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।