জীবজগতের নির্বাক উপাখ্যানে
প্রতিটি প্রাণ, অনাদিকালিক বিধানের অনুগত যাত্রী,
অস্তিত্বের গোপন শপথে অবিচল থেকে
প্রকৃতির অদৃশ্য সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যায়।
কিন্তু মানুষ—
চৈতন্যের অহংকারে দীপ্ত,
স্বপ্নের বহুতল মিনার নির্মাণে ব্যস্ত,
উল্লাসের মাদকতায় নিমগ্ন,
ক্ষণস্থায়ী বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে
ভুলে যায় তার অনিবার্য অন্তিম গন্তব্য।
সে ভাবে—
আরও কিভাবে প্রসারিত হবে ভোগের সাম্রাজ্য,
কিভাবে আনন্দের নক্ষত্রমালা হবে আরও উজ্জ্বল;
কিন্তু ভাবে না—
কোন প্রলয়ের গর্ভে নিভে যাবে তার শ্বাসের প্রদীপ।
অতল জলরাশির কৃষ্ণগহ্বরে?
নাকি দুর্ভিক্ষের ক্ষুধার্ত কঙ্কাল-সময়ে?
মহাঝঞ্ঝার উন্মত্ত বাহুতে ভেসে?
ভূকম্পনের নিষ্ঠুর পাথর-অভিশাপে পিষ্ট হয়ে?
নাকি সভ্যতার রঙিন বিষপাত্রে,
ভেজালের অলঙ্কৃত মৃত্যুভোজে
নিজেই নিজের হত্যাকারী হবে?
নাকি কোনো অন্ধ অপরাধের ধারালো ছায়া
রক্তাক্ত করবে জীবনের পাণ্ডুলিপি?
অথবা দুরারোগ্য ব্যাধির নীরব অগ্নিতে
ধীরে ধীরে ছাই হয়ে যাবে শরীরের নগর?
হায়, মানুষ!
প্রতিটি নিশ্বাসের অন্তরালে
যদি না জাগে আত্মসমীক্ষার দীপশিখা,
যদি না প্রতিটি দিনের ভগ্নাংশে
বিবেকের দরবারে দাঁড় করাও নিজেকে,
তবে কী ভাষায় লিখিত হবে তোমার অন্তিম সাক্ষ্য?
যখন মেঘদূতের মতো আগমন করবে
অনন্তের দূতেরা,
যখন উন্মোচিত হবে কর্মের গুপ্ত গ্রন্থ,
তখন কি উচ্চারণ করবে সন্তুষ্টির ঘোষণা,
নাকি নেমে আসবে অনুতাপের অতল অন্ধকার?
খুঁজে নাও সেই মহাসত্তার সন্তুষ্টি,
যাঁর নীরব ইশারায় ঘূর্ণায়মান গ্যালাক্সি,
যাঁর বিধানে সময় প্রবাহিত অনন্তের দিকে।
মানুষের প্রশংসা ক্ষণিকের প্রতিধ্বনি,
স্রষ্টার সন্তুষ্টিই চিরস্থায়ী আলোকবর্তিকা।
— শাহেদ আহমেদ
লেখক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজকল্যাণ গবেষক, বাংলাদেশ।