সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। ‘সাতক্ষীরা কমিউনিটি গ্রুপ’র উদ্যোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এই পোস্টার ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কসহ এর আশপাশের পুরো এলাকা সচেতনতামূলক বার্তায় মুখরিত হয়ে ওঠে। পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, গুজব প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা, মাদকবিরোধী সচেতনতা, শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তাসমৃদ্ধ পোস্টার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও স্থাপন করা হয়।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও পার্কে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
“ঐক্য, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তায় সাতক্ষীরা কমিউনিটি”—এই মূল নীতিবাক্য এবং “পরিবর্তনের পথে, মানুষের পাশে”—এই স্লোগানকে ধারণ করে তরুণদের এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠন করা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, এডমিন ও ডিজাইনার সালাউদ্দীন সাবাদ (এসসি), সাতক্ষীরা জেলার প্রধান পরিচালক উম্মে ফোয়ারা রানী (এসসি), পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক, তরুণ-তরুণী এবং স্থানীয় সমাজকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণ এবং পথচারীদের সচেতন করার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পুরো কর্মসূচি জুড়ে তরুণদের উদ্দীপনা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
সাতক্ষীরা কমিউনিটি গ্রুপের প্রধান পরিচালক উম্মে ফোয়ারা রানী বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আজকের এই কার্যক্রম মূলত একটি সচেতনতা বৃদ্ধি অভিযান, যার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আজ আমরা পার্কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক পোস্টার ও স্টিকার স্থাপন করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, এখানে আসা প্রতিটি মানুষ যেন এসব বার্তা দেখে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন।”
তিনি আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে পার্কের অভ্যন্তরে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিয়মিত কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের অনৈতিক আচরণ, মাদক সেবন, ইভটিজিং, এবং শহীদ মিনারের অবমাননার মতো গুরুতর অভিযোগ।
তার ভাষায়, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে কিশোর বয়স থেকেই যদি এসব অনিয়ম শুরু হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তারা শুধুমাত্র একটি দিনের কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুন সাকিব বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ সাতক্ষীরার সামাজিক পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তরুণদের এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেয় এবং একটি সচেতন প্রজন্ম গঠনে সহায়তা করে।
পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলও এ ধরনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, নিয়মিত এ ধরনের ক্যাম্পেইন হলে শহরের সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
সবশেষে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কসহ পুরো সাতক্ষীরা জেলা একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ জনপদে পরিণত হবে।