সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের দাড়ার খালের ইজারা বাতিল এবং খালটি স্থায়ীভাবে অবমুক্ত রাখার দাবিতে শত শত কৃষক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে তারা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে কুল্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষক, মৎস্যচাষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কৃষক রবিউল ইসলাম, আবু মুছা, বাবু মোল্যা, মহিউদ্দীন লাকী, মুয়াজ্জিন আব্দুস সাত্তার, রেজাউল ইসলাম (খোকা), আব্দুল গফুরসহ স্থানীয় কৃষক নেতারা।
বক্তারা বলেন, আশাশুনি উপজেলার আইতলা মৌজার বিভিন্ন বিআরএস দাগভুক্ত মোট ২১ দশমিক ৭১ একর খাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খালটির দুই পাশে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে শত শত কৃষক ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন। একই সঙ্গে অসংখ্য মৎস্যচাষীও এ খালের ওপর নির্ভরশীল।
তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল খালটি ইজারা নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে মাটির বাঁধ নির্মাণ ও আড়াআড়িভাবে নেটপাটা স্থাপন করে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার খাল ইজারা দিয়ে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতির শিকার হন কৃষক, মৎস্যচাষী এবং সাধারণ মানুষ। প্রতিবছর ফসলহানির কারণে কৃষকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং অনেক পরিবার জীবিকা সংকটে পড়ছে।
তারা জানান, গত বছর জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করলে প্রশাসনকে অবহিত করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একযোগে খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেন। এরপর পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হলে এলাকায় বাম্পার ফলন হয় এবং দীর্ঘদিন পর কৃষকদের মুখে হাসি ফিরে আসে।
এ বছরও একই পরিস্থিতির আশঙ্কায় দাড়ার খাল অবমুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি শেষে জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাড়ার খালের ইজারা বাতিল করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। আবেদনপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের সুপারিশও সংযুক্ত ছিল।