নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার। যাত্রীদের আসনের পেছনে সিলিন্ডার বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে চলছে এসব যানবাহন। এতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোহনগঞ্জের সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ বেশ কয়েকটি অটোরিকশার যাত্রী আসনের পেছনের খালি জায়গায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার বাঁধা রয়েছে। কোনো কোনো গাড়িতে সিলিন্ডারগুলো যাত্রীদের খুব কাছেই রাখা হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে চালক-যাত্রীসহ আশপাশের মানুষের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে, মিলছে না গ্যাস
স্থানীয় চালকদের ভাষ্য, নেত্রকোনা জেলার একমাত্র এ.আর. খান পাঠান সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। অনেক চালক ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে একদিকে গাড়ি চালানো বন্ধ হয়ে আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংকের কিস্তি ও সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছু চালক বাধ্য হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেছেন।
১০০ টাকার ভাড়া বেড়ে ১৫০ টাকা
গ্যাস সংকটের পাশাপাশি অটোরিকশার ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। মোহনগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা মো. রফিক আহমেদ রাসেল বলেন, “গাড়ির ভেতরে এভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা খুবই ভয়ংকর। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। আগে মোহনগঞ্জ থেকে নেত্রকোনা যেতে ভাড়া ছিল ১০০ টাকা। এখন সেই ভাড়া ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি আমাদের অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে।”
‘বাধ্য হয়েই এলপিজি ব্যবহার করছি’
সিএনজি চালক রিগান মিয়া বলেন, “সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সংকট না থাকলে আমরা কখনোই ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতাম না। গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারাদিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে সংসার চলবে কীভাবে? ব্যাংকের কিস্তিও আছে। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি।”
বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ফায়ার সার্ভিসের
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা দুর্ঘটনার সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
দ্রুত সমাধানের দাবি
স্থানীয় যাত্রী ও চালকদের দাবি, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে, অন্যদিকে বাড়তি ভাড়ার চাপ পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণ অনুসন্ধান, অবৈধ বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ছোট একটি অসতর্কতা থেকেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।