হাড় ও মেরুদণ্ডের (স্পাইন) জটিল চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা ও কাটাছেঁড়ার ভয় কাটাতে এবার বাংলাদেশে জোর দেওয়া হচ্ছে রোবোটিক ও মাইক্রোস্কোপিক প্রযুক্তির ওপর। স্পাইন সার্জারিতে রক্তপাত কমানো, ইনফেকশনের ঝুঁকি হ্রাস এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে গত শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত হলো এক আন্তর্জাতিক বিশেষ সেমিনার।
ভারতের খ্যাতনামা 'বিএলকে-ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল' (BLK-Max Super Speciality Hospital, New Delhi)-এর উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্বমানের প্রযুক্তিবান্ধব চিকিৎসার নানা সুফল তুলে ধরেন দেশ-বিদেশের শীর্ষ চিকিৎসকরা।
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএলকে-ম্যাক্স হাসপাতালের ‘সেন্টার ফর অর্থো স্পাইন অ্যান্ড রোবোটিক স্পাইন সার্জারি’-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান ডা. পুনীত গিরধার (Dr. Puneet Girdhar)। তিনি বলেন, "ডিস্ক হার্নিয়েশন, স্পাইনাল স্টেনোসিস, স্কোলিওসিস বা হাড়ের জটিল বাঁকা ভাব কিংবা স্পাইনাল ফ্র্যাকচারে এখন আর বড় অস্ত্রোপচারের দরকার পড়ে না। 'মিনিমালি ইনভেসিভ কি-হোল' এবং 'রোবোটিক নেভিগেশন গাইডেড' প্রযুক্তির সাহায্যে নামমাত্র কেটে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সার্জারি করা সম্ভব। ফলে রোগী অল্প সময়েই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে পারেন।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাইফ টু ওয়ে গ্লোবাল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং স্পাইন ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. রিশাত ইবতিশাম। চীনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সাথে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, বাংলাদেশি রোগীদের সেই আন্তর্জাতিক সেবার আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য। রোবোটিক ও এন্ডোস্কোপিক সার্জারি যে কত দ্রুত একজন রোগীর জীবনের মান বদলে দিতে পারে, তা চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য। কম সময় ও কম ঝুঁকিতে রোগীকে শতভাগ সুস্থ করে তোলা এখন আর কোনো অবিশ্বাস্য বিষয় নয়।"
সেমিনারে ম্যাক্স হেলথকেয়ারের বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুশোভন প্যান্ডা (Susovan Panda) জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে গেলেও সঠিক তথ্যের অভাবে বিভ্রান্ত হন। রোগীদের সরাসরি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং ভিসা ইনভাইটেশন, টেলি-কনসালটেশন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া তাদের মূল উদ্দেশ্য।
উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন যে, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোবোটিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারির মতো আধুনিক প্রযুক্তির সুফল দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।