1. admin@newstolife.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএমটিএ-এর সভাপতি মুফাসসেরুল হক, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সিতাবুর রহমান এসএসসি বৃত্তির ফলাফলে পলাশের সেরা তালিকায় জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ–জাপান মেডিকেল ট্যুরিজম সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চেন্নাইয়ের SRM PRIME HOSPITAL-এর মতবিনিময় সভা ভূইয়মে একই রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগ উন্নত থোরাসিক সার্জারিতে এআই ও রোবটিকস: ঢাকায় অভিজ্ঞতা বিনিময় করলেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চীনের ফোশানে অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক অনকোলজি ফোরাম ও সামিট ২০২৬ ঢাকায় আসছেন ভারতের ম্যাক্স হেলথকেয়ারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট, নাজুক পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগ—তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

একে,এম আসাদুজ্জামান পাইলট, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১৩২ বার পঠিত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিনদিনব্যাপি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর জমকালো উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনকালে তিনি নজরুলের চেতনাকে ধারণ করে স্বনির্ভর দেশ গড়ার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কবি নজরুলের স্মৃতিধন্য এই মাটিতে জাতীয়ভাবে এই উৎসবের আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরববোধ করছে। দেশের অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুলের দ্রোহের চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

​আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ত্রিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘নজরুল মঞ্চে’ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নজরুলচর্চা, আইনের শাসন, উন্নয়ন এবং সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান ও দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সাবেক রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর যে সকল মানুষ কবির লাশবাহী খাটিয়া বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাছাড়া কবিকে ভারত থেকে ত্রিশালে আনা কাজী রফিজউল্লাহ দারোগাকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি।

জাতীয় কবির শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, ত্রিশালকে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় পর্যায়ে আর ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী আয়োজন করা হয়নি। বিগত সরকারের আমলে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিচার বিভাগেও।” বর্তমান সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করবে ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো ধরনের নির্যাতন এই মাটিতে মেনে নেওয়া হবে না।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, “আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। যেকোনো অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে যারা সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে অরাজকতা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

​শিক্ষা খাতে নতুন উদ্দীপনা তৈরিতে আগামী জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে ‘স্কুল ড্রেস’ ও ‘স্কুলব্যাগ’ বিতরণ শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সম্প্রসারণ করা হবে।

নজরুল জয়ন্তী উদ্বোধনের আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের ঐতিহাসিক ‘বৈলর ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলক উন্মোচন করেন। সেখানে খালপাড়ে একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ শেষে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল রয়েছে, যা পুনঃখনন করা প্রয়োজন। সরকার পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এই কাজগুলো করছে।”

​সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম,জেলা পরিষদ প্রশাসক ইমরান সালেহ প্রিন্স,কবির দৌহিত্রী খিলখিল কাজী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে পুরো ত্রিশালজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ২৪ ও ২৫ মেসহ মোট তিনদিন ব্যাপি চলবে এই জন্মজয়ন্তী উৎসব।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
Eng »