1. admin@newstolife.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএমটিএ-এর সভাপতি মুফাসসেরুল হক, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সিতাবুর রহমান এসএসসি বৃত্তির ফলাফলে পলাশের সেরা তালিকায় জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ–জাপান মেডিকেল ট্যুরিজম সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চেন্নাইয়ের SRM PRIME HOSPITAL-এর মতবিনিময় সভা ভূইয়মে একই রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি, চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগ উন্নত থোরাসিক সার্জারিতে এআই ও রোবটিকস: ঢাকায় অভিজ্ঞতা বিনিময় করলেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চীনের ফোশানে অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক অনকোলজি ফোরাম ও সামিট ২০২৬ ঢাকায় আসছেন ভারতের ম্যাক্স হেলথকেয়ারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট, নাজুক পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগ—তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট, নাজুক পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগ—তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০৯ বার পঠিত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর তেতুলিয়া ইউনিয়নের ৫০ নম্বর আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের অবহেলা, শিক্ষক সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নানা অব্যবস্থাপনায় বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, তিনি সপ্তাহে আনুমানিক দুই থেকে তিন দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু শিক্ষক উপস্থিতির বিষয়ই নয়—বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশও দীর্ঘদিন ধরে নাজুক। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ অপরিচ্ছন্ন, ওয়াশরুমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থাও নেই। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষায়, “৫০ নম্বর আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আছে, বাস্তবে যেন শুধু নামটুকুই আছে।” বছরের পর বছর অবহেলা ও অযত্নে বিদ্যালয়টি কার্যত অচল হওয়ার পথে বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে স্থানীয় কয়েকজনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসীর একটি অংশ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের অনেকেই ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়ে সক্রিয় থাকলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নীরব। তাদের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। আবেদনে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ওয়াশরুম সংস্কার, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করে একজন দায়িত্বশীল ও নিয়মিত শিক্ষক পদায়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাদের মতে, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়—এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান। তাই আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
Eng »