1. admin@newstolife.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট, নাজুক পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগ—তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি নরসিংদীর সব উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন ঢাকায় শেষ হলো চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দুই দিনব্যাপী সেমিনার স্পাইন ও অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: রোবোটিক ও এন্ডোস্কোপিক প্রযুক্তিতে দ্রুত সুস্থতার আশ্বাস রান্নার এলপিজি সিলিন্ডারে চলছে মোহনগঞ্জের সিএনজি শতভাগ জিপিএ-৫: নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শোকজ বরিশালের ‘বাংলার আপেল’ পেয়ারা: সবুজের রাজ্যে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, তলানিতে বরিশাল

স্বৈরাচারের পতন

News to Life Desk :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার পঠিত

লেখক : রিশাত ইবতিশাম

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের সূর্য উঠেছিল এক অদ্ভুত রক্তিম আভা নিয়ে, যা যেন আগেই জানান দিচ্ছিল এক ঐতিহাসিক ও রক্তাক্ত পরিণতির। ঢাকার বাতাসের প্রতিটি অণুতে তখন বারুদ, রক্ত আর দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা ক্ষোভের তীব্র গন্ধ। গত দেড় দশক ধরে কঠোর হস্তে গড়ে তোলা যে ভয়ের রাজত্বকে এতদিন অপরাজেয় মনে করা হতো, রাজপথে আছড়ে পড়া ছাত্র-জনতার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’র সামনে তা তখন তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে। কার্ফু, প্রাণঘাতী গুলি আর ইন্টারনেটের অচলাবস্থা ভেদ করে যখন লাখো মানুষের স্রোত রাজধানীর হৃদয়পানে ধেয়ে আসছিল, রাজপ্রাসাদের ভেতরের ছবিটা তখন ছিল চরম বিপরীতে ঢাকা। বুলেটরোধী সুউচ্চ দেয়ালগুলোও আর জনমানুষের ক্ষোভের সুনামি আটকে রাখতে পারছিল না।

গণভবনের বিশাল ড্রয়িংরুমের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাতাসে তখন এক থমথমে, হিমশীতল নীরবতা। আভিজাত্যমণ্ডিত কাঠের ভারী টেবিলের ওপর অগোছালোভাবে পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্রগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থা কারও নেই। কক্ষের মাঝখানে নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকা নারীটির মুখাবয়ব থমথমে, চোখের নিচে দীর্ঘ বিনিদ্র রাতের কালচে ছাপ স্পষ্ট। এতদিন ধরে চারপাশে ঘিরে থাকা প্রভাবশালী মন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা আর তোষামোদকারীদের সুবিশাল মহল তখন নিজেদের আড়াল করতে একে একে চোরের মতো সটকে পড়েছে। যে প্রাসাদকে এতদিন এক নিশ্চিত দুর্গ বলে মনে হতো, আজ তার প্রতিটি কোণে কেবল নিজেরই নিঃশ্বাসের শব্দ আর আতঙ্কের প্রতিধ্বনি।

ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা চিরে তীক্ষ্ণ শব্দে বেজে উঠল টেলিফোন। রিসিভার কানে তুলতেই ওপাশ থেকে সেনাপ্রধানের সংক্ষিপ্ত অথচ বরফের মতো শীতল বার্তা—”ম্যাডাম, শাহবাগ আর ফার্মগেটের সমস্ত বাধা ভেঙে গেছে। লাখো জনতার স্রোত এখন গণভবনের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের নিরাপত্তা বলয় পুরোপুরি ধসে পড়েছে।”

কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরের সময় যেন থমকে গেল। হাতের শক্ত মুঠো থেকে দামি কলমটি মেঝেকোণে খসে পড়ার শব্দটাই তখন পুরো ঘরে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ বলে মনে হলো। জানালার ভারী পর্দা সামান্য সরাতেই দূরের রাস্তা থেকে ভেসে এলো হাজার হাজার কণ্ঠে উচ্চারিত একটাই অগ্নিগর্ভ দাবি—পদত্যাগ। গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক দাম্ভিকতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে রাজপথের সেই হুঙ্কার আছড়ে পড়ছিল রাজপ্রাসাদের কাচগুলোতে।

“আর কতক্ষণ সময় আছে?” ভারী কণ্ঠস্বরের কাঁপুনি লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে জানতে চাইলেন তিনি।

“সর্বোচ্চ পঁয়তাল্লিশ মিনিট, ম্যাডাম। আমাদের এখনই বের হতে হবে।”

পড়ন্ত বিকেলে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ সামরিক হেলিকপ্টার যখন গণভবনের হেলিপ্যাড ছেড়ে ঢাকার আকাশে ডানা মেলল, নিচের দৃশ্যপটে তখন নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। লাখো জনতার হাতে পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা, বাতাসে শুধুই বিজয়ের মাতম। হেলিকপ্টারের কাচ দিয়ে নিচের ভেঙে পড়া চত্বর আর উন্মুক্ত জনস্রোতের দিকে তাকিয়ে থাকা শূন্য চোখগুলোতে তখন কোনো ভবিষ্যৎ নেই। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপরাজেয় ক্ষমতার একক সম্রাটের পরিচয় মুছে গিয়ে ইতিহাসে কেবল লেখা হয়ে রইল একটি বাক্য—একজন পরাক্রান্ত স্বৈরাচারের পতনকাব্য।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
Eng »