1. admin@newstolife.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট, নাজুক পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগ—তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি নরসিংদীর সব উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন ঢাকায় শেষ হলো চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দুই দিনব্যাপী সেমিনার স্পাইন ও অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: রোবোটিক ও এন্ডোস্কোপিক প্রযুক্তিতে দ্রুত সুস্থতার আশ্বাস রান্নার এলপিজি সিলিন্ডারে চলছে মোহনগঞ্জের সিএনজি শতভাগ জিপিএ-৫: নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শোকজ বরিশালের ‘বাংলার আপেল’ পেয়ারা: সবুজের রাজ্যে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, তলানিতে বরিশাল

বরিশালের ‘বাংলার আপেল’ পেয়ারা: সবুজের রাজ্যে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা

উত্তম কুমার সিকদার, পলাশ, নরসিংদী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৬ বার পঠিত

পেয়ারা বাগান, খাল-বিল আর ভাসমান হাট—বরিশাল অঞ্চলের পেয়ারা চাষ এখন কৃষির পাশাপাশি পর্যটনেরও বড় আকর্ষণ

বর্ষা এলেই বদলে যায় বরিশাল অঞ্চলের চিত্র। চারদিকে সবুজের সমারোহ, খাল-বিলের স্বচ্ছ জল আর গাছভরা পেয়ারা বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এর সঙ্গে যোগ হয় নৌকায় ভাসমান পেয়ারা হাট। সব মিলিয়ে বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের পেয়ারা অঞ্চল হয়ে ওঠে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।

স্থানীয়ভাবে ‘বাংলার আপেল’ নামে পরিচিত বরিশালের পেয়ারা শুধু কৃষিপণ্য নয়, এটি এখন এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত পেয়ারা বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক স্বতন্ত্র জনপদ। আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠি, আদমকাঠি, কটুরাকাঠি, কাফুরকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী ও ডুমুরিয়াসহ প্রায় ৪০টি গ্রামে ব্যাপকভাবে পেয়ারা চাষ হয়।

ভাসমান পেয়ারা হাটে পর্যটকের ভিড়

পেয়ারার মৌসুম শুরু হলেই আটঘর, কুড়িয়ানা ও ভিমরুলীর বিভিন্ন হাটে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। খালের পানিতে নৌকায় নৌকায় সাজানো থাকে টাটকা পেয়ারা। কোথাও কৃষক নৌকায় করে বাগান থেকে পেয়ারা নিয়ে আসছেন, আবার কোথাও পাইকাররা নৌকায় বসেই কিনছেন পেয়ারা।

প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের এই অনন্য সমন্বয় দেখতে প্রতি মৌসুমেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। বিশেষ করে ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারা হাট ও আশপাশের পেয়ারা বাগান পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।

পর্যটকদের অনেকেই মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বরিশালের পেয়ারা অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

পেয়ারাবাগানের সারি, খালের ওপর নৌযান চলাচল, ভাসমান হাট এবং স্থানীয় মানুষের কর্মব্যস্ততা—সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব পর্যটন বৈশিষ্ট্য।

স্থানীয়দের মতে, এখানে আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। পাশাপাশি নৌ-ভ্রমণ, স্থানীয় খাবার, গ্রামীণ জীবন ও পেয়ারা বাগানকেন্দ্রিক পর্যটন প্যাকেজ চালু করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তাদের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র, যাতায়াতব্যবস্থা, নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ, পর্যটন সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও তথ্যকেন্দ্র গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

পেয়ারা সংরক্ষণে প্রয়োজন আধুনিক ব্যবস্থা

তবে পেয়ারা চাষিদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। মৌসুমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেয়ারা বাজারে আসায় অনেক সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

স্থানীয় পেয়ারা ব্যবসায়ীরা জানান, কুড়িয়ানা ও ভিমরুলীসহ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এলাকায় আধুনিক সংরক্ষণাগার বা হিমাগার স্থাপন করা গেলে মৌসুমি চাপ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পেয়ারা প্রক্রিয়াজাত করে জুস, জ্যাম, জেলি, পাল্প ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন শিল্পেরও বিকাশ ঘটতে পারে।

কৃষি থেকে পর্যটন—বদলে যেতে পারে পুরো অর্থনীতি

পেয়ারা চাষকে শুধু মৌসুমি কৃষিপণ্য হিসেবে না দেখে কৃষি, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্থানীয় অর্থনীতির সমন্বিত উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখার সময় এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ, বাজারজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বরিশালের পেয়ারা দেশের অন্যতম শক্তিশালী কৃষি-পর্যটন ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।

এতে কৃষক যেমন ন্যায্য মূল্য পাবেন, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, নৌযান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পেয়ারা উৎপাদন ও পর্যটনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন।

একটি পরিকল্পিত “পেয়ারা পর্যটন অঞ্চল” গড়ে উঠলে ভিমরুলী, কুড়িয়ানা, আটঘরসহ আশপাশের এলাকাগুলো শুধু দেশের মানুষের কাছে নয়, বিদেশি পর্যটকদের কাছেও নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

বরিশালের পেয়ারা তাই এখন আর শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এই পেয়ারা অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে কৃষি, অর্থনীতি ও পর্যটনের এক অনন্য সমন্বিত মডেল।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
Eng »