1. admin@newstolife.com : admin :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকায় ইয়াশোদা হাসপাতালের আন্তর্জাতিক সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত খুলনায় আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের দুর্দান্ত সাফল্য, বৃত্তি পেল ১৭ শিক্ষার্থী পানিবন্দি মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৬০ কেজি চিংড়ি জব্দ দাড়ার খাল অবমুক্তের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি আশাশুনিতে খাল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল জেলের তালায় বীমা ও সঞ্চয়ের নামে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউপি সদস্য শাহিদার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ভোলার তোফায়েল আহমেদ আর নেই।শোকের ছায়া

মোঃ জহিরুল হক, ভোলা
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত

দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ,ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অগ্রসৈনিক, আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল (৮২) বছর।

পরিবারের একাধিক সূত্র তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন বিকেল চারটার দিকে জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন তিনি। অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তিদানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বাধ্য হন। পরদিন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তোফায়েল ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন শেখ মুজিবুর রহমানকে। গণঅভ্যুত্থানেই আইয়ুব খানের পতন ঘটে, অবসান হয় মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার। পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের একজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তোফায়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ১২ বার নির্বাচন করেছেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথম ভোটে বিজয়ী এ রাজনীতিক ৮০ বছর বয়সেও জয়ের মুখে দেখেছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকেই জয় পান।

সবমিলিয়ে তিনি নয়বার সাংসদ হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে— ১৯৭০-এ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একাধিক মেয়াদে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তোফায়েল ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন, যে পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ ১৮ বছর।তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদে।রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় দীর্ঘদিন স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর নিয়ে অনেকবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পরবর্তীতে চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

তার পারিবারিক সুত্রে জানান ভোলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেতা জনাব আলহাজ্ব তোফোয়েল আহমেদ এর জানাজা নামাজ আগামীকাল মঙ্গলবার জোহর বাদ ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া তার গ্রামের বাড়িতে তার বাবা মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে জান্নাত নসিব করেন। আমিন।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
Eng »