
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বীমা ও সঞ্চয়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর মহিলা রোকন শাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং পাওনা অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেল ৪টায় তালা সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গা নলতা মাঝারপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ডাঙ্গা নলতা, জাতপুর, আটরাই, খানপুর, জেয়ালা ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তালা সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিদা বেগম পপুলার হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্যভুক্ত করেন। পরে ১০৮ জনের কাছ থেকে সঞ্চয় ও বীমার নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির বীমা প্রকল্পের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আরও কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও তারা জমাকৃত অর্থ কিংবা প্রতিশ্রুত মুনাফার কোনো অংশ ফেরত পাননি। বারবার যোগাযোগ করেও কেবল আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, দিনমজুরি, ভ্যানচালনা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও ডিম বিক্রির আয়, এমনকি প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো অর্থ থেকেও অনেকে কষ্ট করে সঞ্চয় গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সেই অর্থ ফেরত না পেয়ে এখন তারা চরম আর্থিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
বক্তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে শাহিদা বেগম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্প ও চেক প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় অতিবাহিত হলেও অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কতুব উদ্দীন মাহমুদ, নুর আলী শেখ, পীর আলী শেখ, কালাম মাহমুদ, আরিজুল মালি, জহিরুল ইসলাম, জিহাদ মালি, নীলিমা বেগম, সুফিয়া বেগম, পারভীন, সুফিয়া রশিদা, রিজিয়া, সোরাইয়া ও মুক্তাসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিদা বেগম মুঠোফোনে বলেন, “আমি খুলনা থেকে বাড়ি ফিরছি। গাড়িতে থাকায় ঠিকমতো কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।