
মা, আজ আকাশে চাঁদ ওঠেনি
উঠেছে শিশুদের চাপা কান্না
বাতাসে ভেসে আসে ছোট্ট দু’টি হাতের আর্তনাদ—
“মা, আমাকে বাঁচাও…”
রাতের অন্ধকারে
মানুষের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ানো ছায়ারা
মানবতার নিঃশব্দ দরজায় দাঁড়িয়ে
নীরব উৎসব করে যায়
নদীরা আজ কথা বলে না
জলও যেন লজ্জায় মুখ ঢাকে
কারণ এই মাটির বুকে
নিষ্পাপ শৈশবের স্বপ্নগুলো
বারবার থেমে যায় অদৃশ্য দেয়ালে
একটি শিশুর চোখে পৃথিবী ছিল
রঙিন ঘুড়ি, মায়ের আঁচল,
বিকেলের মাঠ আর অজানা আকাশের ডাক
আজ সেই চোখে
শুধু ভয়ের ঘন নীরবতা জমে থাকে
হাসিগুলো কখন যেন নিভে যায়
নীরব দেয়ালে হারিয়ে যায়
কেউ আর খুঁজে পায় না
সেই হারানো সকালগুলোর শব্দ
মা, আমরা প্রতিশোধ চাই না
আমরা চাই জেগে ওঠা বিবেক
এমন বিচার চাই
যেখানে অন্যায় নিজেই কেঁপে ওঠে
অপরাধের নাম শুনলেই
আমরা চাই এমন সমাজ
যেখানে প্রতিটি শিশু
ঘুমাবে শুধু নিরাপদ স্বপ্নে
জেগে উঠবে শুধু পাখির ডাকে
আজ কলম থেমে নেই
কলম আজ নীরব নয়—
সে আজ ন্যায়ের বজ্র হয়ে ওঠে
প্রতিটি শব্দ শপথ নেয়
এই বাংলার মাটিতে
আর কোনো শৈশব
অন্ধকারে হারিয়ে যাবে না
মা, তুমি আজ দাঁড়াও
ঝড় হয়ে নয়—
দীপশিখা হয়ে
অন্যায়ের সামনে
কারণ জাতির বিবেক আজ আহত
ইতিহাস এখনো দরজায় দাঁড়িয়ে
নীরবে প্রশ্ন করে—
মানুষ হতে
আর কত অন্ধকার পেরোতে হবে মানুষের?