
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ১২৭ নম্বর হিজলা চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও প্রযুক্তি সামগ্রী নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার (৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে চুরির ঘটনাটি সংঘটিত হয়। চোরেরা বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দুটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, একটি প্রিন্টার ও দুটি এলইডি টেলিভিশন চুরি করে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মিতা মণ্ডল জানান, সকালে বিদ্যালয়ে এসে তারা প্রধান ফটকের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। এছাড়া বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ভাঙচুর করা হয়েছে। অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষ তছনছ করে মূল্যবান সরঞ্জামাদি নিয়ে যায় চোরেরা।
আরেক শিক্ষিকা তনুশ্রী ঘোষ বলেন, চোরেরা পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের পেছনের বিদ্যুতের মিটার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর সিসিটিভি ক্যামেরা ও তালা ভেঙে নির্বিঘ্নে চুরি সংঘটিত করে। তিনি আরও জানান, এর আগেও বিদ্যালয়ে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক থানায় অভিযোগ করতে গেছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, বারবার একই বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরকারি সম্পদ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নাইটগার্ড নিয়োগের দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা রোধে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের অপচয় অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।