
বর্তমান নগরজীবনে অধিকাংশ অফিসকর্মীর দৈনন্দিন কাজ কম্পিউটার বা ডেস্ককেন্দ্রিক। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করার ফলে পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা এখন এক নীরব মহামারীতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত বসার ভঙ্গি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এই সমস্যার প্রধান কারণ।
সমস্যার মূল কারণ কী?
দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা ব্যাহত হয়। এতে করে পেশি ও লিগামেন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে যারা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে কাজ করেন, তাদের ঘাড়ে “ফরোয়ার্ড হেড পোস্টার” তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া অপর্যাপ্ত চেয়ার সাপোর্ট, ডেস্কের উচ্চতার অসামঞ্জস্য এবং বিরতি ছাড়া কাজ করাও ঝুঁকি বাড়ায়।
কী ধরনের উপসর্গ দেখা যায়?
• ঘাড়ে টান বা শক্তভাব
• নিচের পিঠে ব্যথা (লো ব্যাক পেইন)
• কাঁধে ব্যথা বা ভারী অনুভূতি
• মাথাব্যথা
• দীর্ঘমেয়াদে ডিস্ক সমস্যার ঝুঁকি
কাদের ঝুঁকি বেশি?
যেসব কর্মী প্রতিদিন ৬–৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, বিশেষ করে আইটি, ব্যাংকিং, কর্পোরেট এবং ফ্রিল্যান্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
সঠিক বসার ভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন—
• চেয়ারে বসার সময় পিঠ সোজা রেখে সম্পূর্ণভাবে ব্যাকরেস্টে ঠেকিয়ে বসতে হবে
• হাঁটু ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকবে এবং পা মেঝেতে সমানভাবে রাখবেন
• কম্পিউটার স্ক্রিন চোখের সমতলে রাখতে হবে
• কীবোর্ড এমনভাবে রাখতে হবে যাতে কনুই ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে
• ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে না রেখে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখতে হবে
প্রতিরোধের উপায় কী?
• প্রতি ৩০–৪৫ মিনিট পর ২–৫ মিনিট বিরতি নিয়ে দাঁড়ানো বা হাঁটা
• নিয়মিত স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম করা
• আরামদায়ক ও সাপোর্টযুক্ত চেয়ার ব্যবহার করা
• প্রয়োজন হলে লাম্বার সাপোর্ট বা ছোট বালিশ ব্যবহার করা
• প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করা
ডা. ইবতিশামের পরামর্শ : প্রাথমিক অবস্থায় এই ব্যথাকে অবহেলা না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ অবহেলা করলে তা ডিস্ক প্রোলাপ্স বা দীর্ঘস্থায়ী মেরুদণ্ডজনিত সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
ডেস্কে বসে কাজ করা আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও সঠিক সচেতনতা ও অভ্যাসের মাধ্যমে পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় সুস্থতার নিশ্চয়তা দিতে পারে।