
চীনের ইয়াংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের (Yangzhou University) ক্যাম্পাসে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এক বাংলাদেশি তরুণ। নাম তার নাসিম আরমান চৌধুরী। ২০২৩ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতা থাকলে বিদেশের মাটিতেও সাফল্যের ঝাণ্ডা ওড়ানো সম্ভব। একাডেমিক মেধা, খেলাধুলা আর ল্যাবরেটরির গবেষণায় সমান পারদর্শিতা দেখিয়ে তিনি এখন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম।
নাসিমের সাফল্যের শুরুটা হয় ‘জিয়াংসু সরকারি স্কলারশিপ’ (Jiangsu Government Scholarship) অর্জনের মাধ্যমে, যা তার অসামান্য একাডেমিক ফলাফলের স্বীকৃতি। কিন্তু পড়াশোনার চার দেয়ালের বাইরেও তার পদচারণা ঈর্ষণীয়।
ক্রীড়াক্ষেত্রে তার প্রতিভা বহুমুখী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে তার দল প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এ ছাড়া ১৫০০ মিটার দৌড়ে তৃতীয় এবং ভলিবল প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অর্জনসহ মার্শাল আর্টেও তার গভীর আগ্রহ রয়েছে। শুধু শরীরচর্চা নয়, মেধার লড়াইয়েও তিনি পিছিয়ে নেই; বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় জিতে নিয়েছেন দ্বিতীয় পুরস্কার।
নাসিম আরমান চৌধুরীর এই বর্ণিল পথচলা নিয়ে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ‘ব্যালেন্স’ বা ভারসাম্যে। পড়াশোনার চাপে অনেক সময় আমরা আমাদের শখগুলোকে হারিয়ে ফেলি। আমি ল্যাবরেটরিতে এক্সপেরিমেন্ট করতে যেমন ভালোবাসি, তেমনি ফুটবল মাঠে ঘাম ঝরাতেও পছন্দ করি। এই বহুমুখী ব্যস্ততাই আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য একজন দক্ষ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার (Genetic Engineer) হওয়া। জেনেটিক মডিফিকেশনের ক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানের এই শাখায় নতুন কিছু যোগ করতে চাই। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, আমি সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”
যারা নতুন করে বিদেশে পড়তে আসতে চায়, তাদের জন্য নাসিম এর পরামর্শ হলো
-নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে বিদেশের মাটিতে খাপ খাইয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয়।
নাসিম আরমান চৌধুরীর অর্জনের এক নজরে পরিসংখ্যান:
* একাডেমিক: জিয়াংসু সরকারি স্কলারশিপ ফর এক্সিলেন্ট রেজাল্ট।
* বক্তৃতা: দ্বিতীয় পুরস্কার (স্পিচ কম্পিটিশন)।
* ফুটবল: প্রথম পুরস্কার (বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন)।
* দৌড় (১৫০০ মি.): তৃতীয় পুরস্কার।
* ভলিবল: পঞ্চম পুরস্কার।
মার্শাল আর্ট, খেলাধুলা আর ল্যাবরেটরির রহস্যময় জগতের প্রতি টান থেকেই বোঝা যায়, নাসিম আরমান চৌধুরী কেবল একজন সাধারণ শিক্ষার্থী নন; তিনি একাধারে স্বপ্নদ্রষ্টা ও লড়াকু। তার এই সাফল্য বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্রকে আরও উজ্জ্বল করছে।